সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বে রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধ, বিশ্লেষকদের উদ্বেগ

রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে একমত হয়নি। সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার প্রস্তাব এসেছে, তবে কীভাবে তারা নির্বাচিত হবেন তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, নারী ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ কম ছিল। তারা রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে নারীদের ভূমিকা ও প্রাধান্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও গত এক বছরে অনেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে গেছেন।
তবে নারীদের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে। তবে সেই কমিশনে কোনো নারী না থাকায় সমালোচনাও হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, ‘তাদের ওখানে নারীর উপস্থিতি কম ছিল। কাজেই যে আলোচনাটা হয়েছে, সেটা নারী বিষয়ক হলেও সেখানে নারীর অংশগ্রহণই কম। এটা (সমালোচনা) তো হওয়ারই কথা।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোতেও নারী সদস্য ছিল কম। যারা অংশ নিয়েছেন, তারাও নারী সংসদ সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের রাজনীতিতে আগ্রহী ভাবতে নারাজ। ১০০টা নারী আসন যদি সরাসরি নির্বাচন হয়, তাহলে অনেক নারীর আর দলে নির্ভর করতে হতো না।’
সংসদে নারী আসন বাড়ানোর পক্ষে বিএনপি। তবে সরাসরি নির্বাচন করে জেতার বাস্তবতা এখনও তৈরি হয়নি বলে মনে করেন দলটির নেতা শামা ওবায়েদ।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা সরাসরি নির্বাচনে আরও বেশি নারী চাই। কিন্তু রাতারাতি এটা হবে না। দল এ লক্ষ্যে কাজ করছে। এখন থেকেই দল কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের সুযোগ করে দিচ্ছে রাজনীতির মাঠে কাজ করার জন্য।’
এ বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা তো জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্বের পক্ষে। তবে তারা সরাসরি নির্বাচিত হবেন, নাকি সংরক্ষিত আসনে আসবেন—এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছু আলোচনা আছে।’
তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, নারীরা অনেক এগিয়েছেন এবং সরাসরি নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘তারা কিন্তু সরাসরি নির্বাচনে আসতে পারেন। আর যদি তা না হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা নারীকে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ আসনে মনোনয়ন দেবেন।’
বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় ফোরামে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে সংসদেও তা বাড়বে।