নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার শঙ্কা, দেশে প্রতিদিন ১১ খুন

জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। পুলিশের কাজে সহায়তার জন্য বিতরণ করা হবে ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মীরা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, গত এক বছরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোন উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১টি হত্যা ঘটছে এবং ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে নিজেরাও উদ্বিগ্ন পুলিশ প্রধান।
সম্প্রতি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রকম একটা ট্রমাটিক এক্সপেরিয়েন্সের পরে এই আমার ফোর্সটাকে গুছিয়ে, তাদেরকে শতভাগ ইফেক্টিভ করা। এই জায়গায় কিন্তু আমি এখনও সন্তুষ্ট না, আপনারা যাই বলেন।’
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় নির্বাচনের নিরাপত্তার বিষয়টি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাহিনীগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও খুব একটা বদলায়নি চিত্র। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রকাশ্য হামলার শিকার সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণির মানুষ।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে এ বছর জুন পর্যন্ত ১১ মাসে সারা দেশে ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ১২১ জন এবং আহত ৫ হাজার ১৮৯ জন।
নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে সেনাসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৮ লাখ সদস্য থাকবে। পুলিশের জন্য থাকবে বডি ক্যামেরা। তবুও সহিংসতার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারছেন না বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘সার্বিকভাবে পরিস্থিতি কিন্তু আমার কাছে এখনও অনুকূল হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। তার সাম্প্রতিক প্রমাণ হচ্ছে তুহিন নামের যে সাংবাদিককে হত্যা করা হলো। এই যে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজির যে প্রবণতা সেটা প্রমাণ করে যে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও দুর্বল অবস্থায় আছে।’
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একবছরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতারও অভিযোগ তাদের।
মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী এলিনা খান বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব যে ভালো যাচ্ছিলো, আমি বলব ৫ আগস্টের পর খুব একটা না। নাজুক অবস্থাতেই আছে। এটা থেকে উত্তরণের তেমন কোনো উদ্যোগও আমি দেখতে পাচ্ছি না। এটা আরও খারাপ দিক। সামনে আরও খারাপ দিন আসছে কারণ যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে, তখন তো সবগুলো রাজনৈতিক দল মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।’
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেভিল হান্টসহ বিভিন্ন অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। নাশকতার শঙ্কায় সারা দেশে জারি করা হয় সতর্কতাও।