উত্তরের ২ জেলায় বন্যার অবনতি, ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

উজানের ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে বন্যার পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। দুই জেলায় পানিবন্দি প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর নদী তীরবর্তী নিম্নভূমি ও চরাঞ্চলে পানি কমেনি, ফলে দুর্ভোগ অব্যাহত আছে।
উজানের ঢলের কারণে মঙ্গলবার থেকে তিস্তা ব্যারাজের সব জলকপাট খোলা আছে। তবুও উজানের পানি ও বৃষ্টিপাত কমার পরও বৃহস্পতিবারও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
দুই দিন ধরে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার নিচু এলাকায় বাড়িঘর-রাস্তাঘাট তলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। জেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, “পানি ওঠা-নামার কারণে তিস্তা ও ধরলায় বেশ কয়েকটি বন্যা পয়েন্ট রয়েছে। এগুলোর তথ্য আমরা উর্ধ্বতনদের কাছে পাঠিয়েছি। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে কোথাও কোনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে খাদ্যের প্রয়োজন হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা নেব।”
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১৫ গ্রাম ও চরাঞ্চল তলিয়ে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি। এদিকে, বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দেওয়ায় জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “একটি এনজিও থেকে টাকা নিয়ে গরুর খামার করেছি, এটা যদি চলে যায় তাহলে তো আমার কোনো জায়গা থাকবে না।”
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “শুক্রবারের মধ্যে পানি ৩০ সেন্টিমিটার মতো নিচে নেমে যাওয়ার কথা। যে জায়গাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। জিও ব্যাগ ডাম্প করছি।”
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ এলাকায় পদ্মা তীরবর্তী ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানি নামলে আর্থিক ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইয়াছিন আলী বলেন, “প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জন কৃষকের জমি বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। আমরা কৃষকদের মাধ্যমে আক্রান্ত জমির তথ্য নিচ্ছি এবং তথ্য সংগ্রহ করছি।”
রাজশাহীতে পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি ও বাড়িঘরে ঢুকেছে পানি। ঝুঁকি বিবেচনায় বাঁধগুলোতে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।