জামালপুরে আল আকাবা সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহক অর্থ আত্মসাত ও মানিলন্ডারিং মামলা

জামালপুরে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ব্যাংকের তুলনায় উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সমবায় সমিতি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে এই বিশাল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে অপরাধের দায়ে পড়ে।
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানায় সমবায় কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে এই সমিতি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে এবং প্রয়োজনে আরও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে মানিলন্ডারিং এর অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মাদারগঞ্জ আল আকাবা সমবায় সমিতির পরিচালক ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জামালপুর জেলাধীন মাদারগঞ্জ থানায় গতকাল বুধবার (২০ আগস্ট) মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে সিআইডি। মামলা নং-১৪।
জসীম উদ্দিন খান জানান, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নামের সমবায় সমিতি। এসব সমিতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানে রয়েছে মাদারগঞ্জ আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতিটি জামালপুর জেলার বিভিন্ন থানা এবং পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতো। ব্যাংকের চেয়ে বেশি হারে মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ১৩-১৪ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে। প্রতি লাখে মাসে ১২০০-১৫০০ টাকার মুনাফার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করে। শুরুতে সীমিত পরিসরে লাভ দিলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দিয়ে সমিতির মালিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস তালাবদ্ধ করে গা-ঢাকা দেয়।
জানা যায়, আত্মসাৎ করা টাকা দিয়ে পরিচালকেরা বিভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠান খুলে বিপুল সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে জামালপুরে ১৫ একর জমির ওপর ‘আলফা অটো ব্রিকস’, গাজীপুরে জমির ওপর ‘আলফা ড্রেসওয়ার’ নামে গার্মেন্টস কারখানা, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পে ৯টি প্লটসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও জামালপুর জেলায় শত শত বিঘা জমি রয়েছে।
মানিলন্ডারিংয়ের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ, জামালপুর দায়রা জজ আদালত ইতোমধ্যে সমিতির সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশগমনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
সিআইডি জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট কাজ করছে।