শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মোহাম্মদপুরে কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৬ কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ভোলার অতিরিক্ত জেলা জজের বিরুদ্ধে বিচারিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে ৩৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,৪৮৪ ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এগিয়ে আসার আহ্বান বরফ গলনে বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, মেরু উঠছে—বিষুবীয় ভূমি নামছে পশ্চিম তীরে প্রেস টিভির নারী সাংবাদিককে আটকের অভিযোগ গুলশান-বনানীর লেক দূষণ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৬
  • ব্যান্ডেজে সতর্কবার্তা: ‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না’

    ব্যান্ডেজে সতর্কবার্তা: ‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না’
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মামুন মিয়া কয়েকদিনের মধ্যেই শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের স্বপ্ন দেখছিলেন। পরিবারের হাল ধরবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল তার আপনজনদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

    সম্প্রতি রামদার কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন মামুন। আঘাত এতটাই গভীর যে চিকিৎসকরা তার খুলির একটি অংশ অপসারণ করতে বাধ্য হন। খুলির ভাঙা অংশ বর্তমানে ফ্রিজে সংরক্ষিত রয়েছে। মাথায় সাদা ব্যান্ডেজে কালো কালিতে লেখা হয়েছে সতর্কবার্তা—‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না।’

    এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন মামুন, তার পরিবার প্রার্থনায় বুক বাঁধা অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।

    মামুনের বড় বড় ভাই টাঙ্গাইলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। নাম মাসুদ রানা। ভাইয়ের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি। বললেন, ‘মামুন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছে। তাকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে কি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে? যে আশা নিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালাম সেটা এখন ধুলিস্মাৎ হওয়ার পথে। ডাক্তার বলেছেন, সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। সুস্থ হলেও মেনে চলতে হবে অনেক বিধিনিষেধ।’

    হাসপাতালের শয্যায় নিথর পড়ে আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরেক ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম। অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। রোববার শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘাতে তিনিও গুরুতর আহত হন। তার মাথায়ও পড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত।

    চিকিৎসকরা তার মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর কেটে গেছে চার দিন তথা ৯৬ ঘণ্টার কাছাকাছি। এখনও চোখ মেলেনি সায়েম। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছেন। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

    সায়েমের বাবা মোহাম্মদ আমির হোসেন ছেলের খবর শুনে বগুড়া থেকে ছুটে এসেছেন চট্টগ্রামে। হাসপাতালের করিডোরে কাটছে রাত। চোখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘ছেলেকে অনেকবার নিষেধ করেছিলাম। বলেছিলাম, মারামারিতে যাস না। কিন্তু সে বলল, আহত বন্ধুদের হাসপাতালে নিতে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর শুনি আমার ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে সন্ত্রাসীরা। একজন মানুষ কীভাবে আরেকজনকে এভাবে কোপাতে পারে?’

    পার্কভিউ হাসপাতালের স্পেশালাইজড ইউনিটের ইনচার্জ ডা. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘ইমতিয়াজ সায়েমের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুলির ভেতরের অংশ ও রক্তনালী ছিঁড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি। শুধু ব্লাড প্রেসারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।’ 

    মামুনের বিষয়ে তিনি জানান, তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। খুলি ফ্রিজে রাখা হয়েছে। যদি সুস্থ থাকে, দুই থেকে আড়াই মাস পর তা পুনঃস্থাপন করা হবে। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।’

    উল্লেখ্য, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ঘটনা থেকে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। একজন ছাত্রী ভাড়া বাসায় দেরিতে ঢুকতে চাইলে দারোয়ান তার গায়ে হাত তোলেন। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং তা গ্রামবাসীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ আহত হন প্রায় ৪০০ জন। এখনও তিন শিক্ষার্থী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।  


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন