জুলাই সনদ কার্যকর করতে চার প্রস্তাবনার কথা জানালেন বিশেষজ্ঞরা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৪টি ভিন্ন পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছেন।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ২৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক নথি নয়, বরং জাতীয় ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি রূপরেখা। এ কারণে এর বাস্তবায়নে চারটি পদ্ধতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি জানান, বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবিত পদ্ধতিগুলো হলো—
১. সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে সনদের মূল ধারাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা।
২. প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কার এনে বাস্তবায়নের পথ সুগম করা।
৩. রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে যৌথ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন।
৪. নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা জুলাই সনদকে যুগোপযোগী বলে মত দেন। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দলীয় স্বার্থ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।
ড. আলী রীয়াজ আরও বলেন, “এই সনদ বাস্তবায়ন হলে কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই আসবে না, অর্থনীতি ও সামাজিক খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেবে।”
ড. আলী রীয়াজ বলেন, বিশেষজ্ঞরা ৪টি পদ্ধতিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
এর আগে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ছয় সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বিবেচনা ও জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তির সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করে সরকার। এতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি এবং সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজকে সহ-সভাপতি করা হয়।
কমিশনে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের আইয়ুব মিয়া, পুলিশ সংস্কার কমিশন প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন বিচারপতি এমদাদুল হক ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন প্রধান ইফতেখারুজ্জামান।
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করা এ কমিশনের মেয়াদ ঠিক করা হয় ছয় মাস, ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। পরে গত ১২ আগস্ট কমিশনের মেয়াদ আরেক মাস বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর করা হয়। আজ আবার সেই মেয়াদ আরও ১ মাস বাড়ানো হলো।