মার্কিন নাগরিককে হোটেলে রাখলেন জাপা নেতা, রিসিভ পুলিশের দায়িত্বে

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, এনায়েত করিম, যিনি মাসুদ করিম চৌধুরী নামেও পরিচিত, তাকে আনতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, এনায়েত করিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরে পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার আরেকজন কর্মকর্তা তার দেহরক্ষী হিসেবে এক পুলিশ সদস্যকে নিয়োজিত করেন।
এই ঘটনায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সম্পর্ক এবং দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জটিলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
গ্রেপ্তারের সময় ওই দেহরক্ষী এনায়েত করিমের সঙ্গেই ছিলেন। দেহরক্ষীকে এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে ডিআইজির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসার পর এনায়েত করিম দুদিন একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান করেন। ওই হোটেল বুকিং ও তার ভাড়া পরিশোধ করেন জাতীয় পার্টির রওশনপন্থী অংশের মহাসচিব পরিচয় দেওয়া কাজী মামুনুর রশিদ।
গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত করিম এসব তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত শনিবার এনায়েত করিমকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গত সোমবার ওই মামলায় আদালত এনায়েত করিমকে রিমান্ডে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। তার কাছ থেকে জব্দ করা পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এনায়েত করিমকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিষয়ে জানা গেছে। তথ্য- প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই সব সন্দেহভাজন ব্যক্তিকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, এনায়েত করিম ২০ বছরের বেশি সময় ধরে একটি প্রভাবশালী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান পরিচয় দিয়ে বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানোর স্বপ্ন দেখিয়ে, কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল ডিনারে আমন্ত্রণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেন।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও অনেক নেতার কাছ থেকে অর্থ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালের পর বিএনপিপন্থী এক সাংবাদিক নেতা এবং নবগঠিত একটি দলের নেতার (তিনি পরে দলটি ছেড়ে যান) সঙ্গে সখ্য গড়েও এনায়েত করিম প্রতারণা চালিয়ে গেছেন। এই দুজনের সঙ্গে এখনো এনায়েত করিমের যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলেও একবার এনায়েত করিমকে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।