ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা বাংলাদেশের মানবাধিকার উন্নয়নে সন্তুষ্ট

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের মানবাধিকার অগ্রগতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাঁচ দিনের সফরে আসা চার সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক উপকমিটি (ডিআরওআই)-এর চেয়ার মৌনির সাতুরি। সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষ মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় ও সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
সফররত সদস্যরা বর্তমান মানবাধিকার পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারের অব্যাহত সম্পৃক্ততা, সংলাপের উন্মুক্ততার কথা স্বীকার করেন। তারা জনগণের ভোটদানের আকাঙ্ক্ষার প্রশংসা করেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, ইইউ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রতিনিধি দলকে মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা রোধে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বিষয়ে অবহিত করেন।
তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অটল প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি জোরপূর্বক গুম সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রোটোকলসহ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার প্রটোকলগুলোতে সংহতি জানানোর কথা তুলে ধরেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের ভিত্তি স্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চলমান প্রচেষ্টার রূপরেখা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে ইইউ'র সমর্থনের কথা স্বীকার করে তিনি ইইউ প্রাক-নির্বাচন এক্সপ্লোরেটরি মিশনের আসন্ন বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানান।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন ডিআরওআই সভাপতি। সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও মানবিক সহায়তা প্রদানে সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্বব্যাপী ফোকাস বজায় রাখতে ইইউ নেতৃত্বের অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য চলমান ত্রাণের ব্যবধান দূর করার আহ্বান জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে ইইউকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন তৌহিদ হোসেন।
প্রতিনিধি দলটি আগামীকাল ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ছাড়ার আগে আজ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে।