নারী ভোটের শক্তি কাজে লাগাতে নানা উদ্যোগ নেবে জামায়াত

জামায়াতে ইসলামী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। দলের মহিলা বিভাগ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন, সভা-সেমিনার আয়োজনের পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে জামায়াত আগামী নির্বাচনে নারী ভোটের প্রভাব কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে পারবে, যা দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানিয়েছেন, তাদের মহিলা বিভাগ রুকন সম্মেলন, কর্মী সম্মেলন থেকে শুরু করে উঠান বৈঠক, ভোটার সমাবেশসহ নানান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজও চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নারী ভোটারদের সমর্থন পেতে জামায়াতে ইসলামী নিজের অবস্থান শক্ত করতে উদগ্রীব। কয়েক লক্ষাধিক নারী কর্মীর সমন্বয়ে গঠিত দলটির মহিলা বিভাগ প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য দলের তুলনায় নির্বাচন প্রস্তুতিতে এগিয়ে। একই সঙ্গে সংগঠিত এই মহিলা বিভাগকে ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে দেখছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামী নির্বাচনে নারীদের এই ভোটবাক্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত তারা।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামলা, মামলা ও নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও গোপনে তাদের দাওয়াতি কার্যক্রম চালু রেখেছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা প্রকাশ্য কার্যক্রম জোরদার করে। সারাদেশে আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত ১৫ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ২২ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে মহিলা বিভাগের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা।
এরপর ১৯ মে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কার্যক্রম ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। ব্রিটিশ হাইকমিশনার নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রীরা তাদের চিন্তা-ভাবনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।