আন্তর্জাতিক ডাটার জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে চায় স্টারলিংক

ইলন মাস্কের টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ডাটা পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর বা ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করতে আগ্রহী। কোম্পানিটি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে। যদি অনুমোদন মিলে যায়, তবে স্টারলিংকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূ-অবস্থান আন্তর্জাতিক ডাটা ট্রান্সমিশনে একটি কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে নতুন দিক খুলে দেবে।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে স্থাপিত গেটওয়ে ব্যবহার করে বিদেশি গ্রাহকদের জন্য ডেটা পরিবহন করবে স্টারলিংক। এজন্য স্থানীয় আইটিসি থেকে আইপিএলসি (ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিজড সার্কিট) ও আনফিল্টারড আইপি কিনে সিঙ্গাপুর ও ওমানের পপ (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স)-এ ব্যাকহল সংযোগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ সেবা বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য নয়, শুধু বিদেশি গ্রাহকদের জন্য।
স্টারলিংকের দাবি, গত এপ্রিলের এক বৈঠকে এ প্রস্তাব আলোচনা ও অনুমোদন হয়েছিল। তবে বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি আলোচনা হলেও অনুমোদন হয়নি। কমিশন বলছে, গাইডলাইনের বাইরে গিয়ে অনুমোদনের সুযোগ নেই।
প্রস্তাব ঘিরে প্রযুক্তি খাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। আবার অন্যরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, আনফিল্টারড আইপি ব্যবহারে ডেটা মনিটরিং ও আইনগত ইন্টারসেপশন দুর্বল হতে পারে, যা সাইবার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
স্টারলিংকের ট্রানজিট প্রস্তাব: সুযোগ নাকি নিরাপত্তা শঙ্কা? / বাংলাদেশে গেটওয়ে স্থাপনের পর আন্তর্জাতিক ডেটা পরিবহনে অনুমোদন চায় ইলন মাস্কের কোম্পানি
বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন ডিভিশনের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ বলেন, “স্টারলিংকের আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আবেদন পর্যালোচনা করে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় গাইডলাইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
স্টারলিংক ইতোমধ্যে গাজীপুর, রাজশাহী ও যশোরে চারটি স্থানীয় গেটওয়ে স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে। তবে এগুলো কার্যকর কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বিটিআরসি।