শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে বিতর্ক: রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর নতুন দাবি

গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছিলেন—এমন ধারণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, আসলে শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় পদ ছাড়েননি; বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিস্থিতির চাপে তিনি ভারতে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) এক বক্তব্যে আমির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ‘এটি ছিল এক ধরনের কৌশলগত সরে যাওয়া। পদত্যাগের ঘোষণা না দিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে এবং জীবন রক্ষার স্বার্থে ভারত গমন করেছিলেন তিনি।’
স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আরও বলেন, ইতিহাস বিকৃত করে বা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করা যাবে না। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানের চাপ থাকলেও শেখ হাসিনা সরকারের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে; আবার অনেকেই বলছেন, বিষয়টি আদালতের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জেরার সময় এমন দাবি করেন তিনি। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন নাহিদ।
জবানবন্দিতে দেওয়া নাহিদ ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন আমির হোসেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সরকার পতনে ডাকা এক দফা কর্মসূচি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ছিল। এ আন্দোলনের পেছনে দেশি-বিদেশি শক্তির হাত ছিল। দেশি-বিদেশি শক্তির ইন্ধন ছিল বিধায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
স্টেট ডিফেন্সের এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে আপত্তি জানান প্রসিকিউশন। তাদের মতে, এ মামলায় এমন আলোচনা করার সুযোগ নেই। মামলা সম্পর্কিত কথা বলাই উত্তম।
এ সময় শেখ হাসিনার আইনজীবী বলেন, ড. ইউনূসকে জড়িয়ে কোনো কথা বলা সমীচীন মনে করি না। কিন্তু সাক্ষীর বক্তব্যের খাতিরে বলতে হচ্ছে।
শেখ হাসিনা ও কামালকে নির্দোষ দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের কোনো নির্দেশ দেননি শেখ হাসিনা। মূলত জনগণের জানমাল ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়নি। তাই এই আসামিরা অপরাধের জন্য দায়ী নন।
আমির হোসেনের এমন প্রশ্নের জবাবে এসব সত্য নয় বলে জানান সাক্ষী নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে ৫ আগস্ট সারাদেশে চালানো হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন সম্পর্কে সমন্বয়ক হাসনাত-সারজিসের কাছে জানতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।