টেকনাফে অপহৃত নারী-শিশুসহ ৮৪ জন উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফের দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে অপহরণ ও মানবপাচারের একটি বড় চক্র শনাক্ত করে যৌথ অভিযান চালায় বিজিবি ও র্যাব। অভিযানে প্রায় ৮৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়, যারা বিভিন্ন সময়ে অপহৃত হয়েছিল এবং সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য জড়ো করা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে আহত এবং মানসিকভাবে শোকগ্রস্ত ছিলেন। অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং কিছু যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। যৌথ বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং নিরাপদে উদ্ধারকৃতদের পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় যৌথবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাহাড় থেকে গুলি ও পাথর নিক্ষেপ করে চক্রটি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি-২) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য বেড়েই চলেছে । এসব বন্ধে সবসময় সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফে বিজিবি ও র্যাবের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় রাজারছড়া গহীন পাহাড়ি এলাকায় একটি আস্তানা ঘিরে ফেলে যৌথবাহিনী।
তিনি আরো জানান অভিযানের সময় পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং জিম্মিদের পাহাড়ের নিচে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে যৌথ বাহিনী পাল্টা গুলি না চালিয়ে কৌশলগতভাবে পাহাড় ঘিরে ফেলে। পরে সাহসিকতার সঙ্গে খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠে পাচারকারীদের আটক করে তারা। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযান শেষে আটক হওয়া তিন পাচারকারী হলেন—আব্দুল্লাহ (২১), সাইফুল ইসলাম (২০) ও মো. ইব্রাহিম (২০)।
তবে রেজাউল করিম ও আয়াতুল তনজিদসহ বেশ কয়েকজন পাচারকারী পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি একনলা বন্দুক, একটি ওয়ান শুটার গান, দুটি দেশীয় রামদা ও একটি চাকু।