সব দল একমত দুদক সংস্কারে, বাস্তবায়ন সরকারের ওপর: টিআইবি নির্বাহী

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সাম্প্রতিক বৈঠকে সব রাজনৈতিক দল মুলত একমত পোষণ করেছে। তবে এই সংস্কারের বাস্তবায়ন মূলত সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সদস্য ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পঞ্চমবারের মতো পাঁচ বছরের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০১৫ সাল থেকে দুদকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক কার্যকর রয়েছে। এবারের সহযোগিতায় যৌথ গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও সচেতন নাগরিক কমিটির কার্যক্রম বেগবান করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দুদকের ওয়াচডগ এবং একই সঙ্গে সহযোগী। ঘাটতি চিহ্নিত করে আমরা পরামর্শ দেই, পাশাপাশি দুদকের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করব।
এসময় দুদক সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুদক সংস্কার কমিশনের ৪৭টি সুপারিশের প্রায় সবই রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নিয়েছে। তবে কিছু সুপারিশের বাস্তবায়ন এখন সরকারের হাতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে দুদক একটি আদর্শ দুর্নীতি দমন কমিশনে পরিণত হবে।
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, টিআইবির সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের ১০ বছর পূর্তি হলো। এবার পাঁচ বছরের জন্য সমঝোতা চুক্তি করেছি। আমাদের লক্ষ্য একই বাংলাদেশের মঙ্গল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এবারই প্রথম সরকার আন্তর্জাতিক দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ না করে স্বীকার করেছে। তার ভাষ্য, এটি সত্যের কাছাকাছি, তাই আমরা গ্রহণ করেছি।
অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, দুদক যদি দুর্নীতিমুক্ত না হয়, তবে অন্য প্রতিষ্ঠানকে বলার নৈতিক অধিকার থাকে না। তাই আমরা নিজেদের ঘরে দুর্নীতি রোধে কাজ করছি এবং মিডিয়া এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।