শিগগিরই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর : ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো খুব শিগগিরই সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মূল বিষয়গুলোকে সামনে রেখে একটি ‘জুলাই সনদ’ সই করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এ সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় হবে।
ড. ইউনূস আরও বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের এই উদ্যোগ দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের মাইলফলক হবে। তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে এ সনদ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে।
আশা করা হচ্ছে, এ সনদের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা সুস্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথনির্দেশনা পাওয়া যাবে।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আরেকজন স্বৈরশাসকের উত্থান রোধ করাই সংস্কারগুলোর লক্ষ্য।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।
পরে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বৈঠকের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বৈঠকে দুই নেতা নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো।
প্রধান উপদেষ্টা পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় শেহবাজ শরিফ এ ধরনের দুর্যোগের ঘন ঘন ও তীব্র হওয়ার কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ড. ইউনূস জানান, বাংলাদেশ আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পথে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন ১১টি জাতীয় কমিশনের প্রস্তাবিত বড় ধরনের রাজনৈতিক সংস্কার বাংলাদেশে অর্থবহ রাজনৈতিক রূপান্তরের পথ সুগম করবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায় চলছে এবং দলগুলো শিগগির সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মূল বিষয়সমূহ নিয়ে একটি ‘জুলাই সনদ’ সই করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিকল্প পথ নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন।
বৈঠকে শেহবাজ শরিফ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ড. ইউনূসকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বুধবার দিনের শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি হোটেলে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
এর পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
প্রধান উপদেষ্টা এছাড়াও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে কোসোভোর প্রেসিডেন্ট ভজোস্যা ওসমানির সঙ্গে বৈঠক করেন।