শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মোহাম্মদপুরে কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৬ কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ভোলার অতিরিক্ত জেলা জজের বিরুদ্ধে বিচারিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে ৩৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,৪৮৪ ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এগিয়ে আসার আহ্বান বরফ গলনে বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, মেরু উঠছে—বিষুবীয় ভূমি নামছে পশ্চিম তীরে প্রেস টিভির নারী সাংবাদিককে আটকের অভিযোগ গুলশান-বনানীর লেক দূষণ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৬
  • আজ ২ মার্চ: জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস

      আজ ২ মার্চ: জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি মানচিত্র খচিত সেই পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শোষণ, বঞ্চনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালির স্পষ্ট প্রতিবাদ ও স্বাধীনতার অঙ্গীকার।

    মিছিলের নগরীতে ঢাকা

    ১৯৭১ সালের ২ মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণার পর সকাল থেকেই ঢাকার রাজপথে নেমে আসে সর্বস্তরের মানুষ। দলমত নির্বিশেষে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে।

    অকুতোভয় ছাত্রসমাজ পাকিস্তানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জানিয়ে দেয়—বাঙালি মাথা নত করবে না। পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার অভিযাত্রা কার্যত শুরু হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বিকল্প নেই—এই বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    নেতৃত্বে ছাত্রনেতারা

    সেদিনের ছাত্রসমাবেশে নেতৃত্ব দেন নূরে আলম সিদ্দিকী, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজ ও আ স ম আবদুর রবসহ তৎকালীন ছাত্রনেতারা। তাঁদের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত করে।

    পরে ২৩ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, যা স্বাধীনতার দাবিকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

    পতাকার নকশা ও পরিবর্তন

    ১৯৭১ সালের ২ মার্চ উত্তোলিত পতাকাটির নকশা করেছিলেন শিব নারায়ণ দাশ। এতে সবুজ পটভূমির ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত ছিল।

    স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে পতাকার বর্তমান রূপ গৃহীত হয়। মানচিত্র বাদ দিয়ে সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল ভরাট বৃত্ত রাখা হয়। এ নকশা প্রণয়ন করেন শিল্পী কামরুল হাসান। লাল বৃত্তটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার উদীয়মান সূর্যের প্রতীক।

    স্বাধীনতার প্রতীক

    দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ ও অগণিত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই সংগ্রামের পুরো সময় জুড়ে এই পতাকাই ছিল বাঙালির আশা, সাহস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।

    ২ মার্চ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—একটি পতাকা শুধু একটি রাষ্ট্রের পরিচয় নয়, এটি একটি জাতির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার অমর স্মারক।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন