বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ভোলার অতিরিক্ত জেলা জজের বিরুদ্ধে বিচারিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে ৩৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,৪৮৪ ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এগিয়ে আসার আহ্বান বরফ গলনে বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, মেরু উঠছে—বিষুবীয় ভূমি নামছে পশ্চিম তীরে প্রেস টিভির নারী সাংবাদিককে আটকের অভিযোগ গুলশান-বনানীর লেক দূষণ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৬ জ্বালানি সংকটে এখনো কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করবে ইসি
  • আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির ২ শিক্ষক ও ছাত্রলীগ সভাপতির ১০ বছরের কারাদণ্ড

    আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির ২ শিক্ষক ও ছাত্রলীগ সভাপতির ১০ বছরের কারাদণ্ড
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করেন।

    রায়ে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে সরাসরি সম্পৃক্ততার দায়ে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর এটি প্রথমবারের মতো কোনো সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এমন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

    দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন:

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান
    লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ
    এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি একই মেয়াদের কারাদণ্ড পেয়েছেন।

    গত বছরের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তৎকালীন ছাত্র আন্দোলন দমাতে অভিযুক্তরা প্রত্যক্ষভাবে উসকানি ও সহায়তা প্রদান করেছিলেন।

    ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের বর্বরোচিত গুলির ঘটনায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল নেতিবাচক। তারা আবু সাঈদকে রক্ষায় এগিয়ে না এসে আক্রমণকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।

    বিচারকরা আরও উল্লেখ করেছেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনার প্রতি সম্মান রেখে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই রায় প্রদান করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই রায়ের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর প্রবণতা বন্ধ হবে।

    আবু সাঈদ হত্যার পর দেশজুড়ে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তা শেষ পর্যন্ত সফল গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে আজকের এই রায়কে সেই বিপ্লবের ফসল হিসেবে দেখছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও আইনজীবীরা।

    শহীদ আবু সাঈদের পরিবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, আসামীপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। বর্তমান সরকার ও প্রসিকিউশন টিম এই রায়কে দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন