অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টায় একজন হেফাজতে, মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছরের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্লু পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তবে হেফাজতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এরই মধ্যে কিছু তথ্য-প্রমাণ বা ক্লু পাওয়া গেছে এবং একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাটি শনাক্ত করে মূল আসামিকে ধরে ফেলার কথা বলা হলেও, তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে থাকা ব্যক্তির বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না পুলিশ।
তিনি বলেন, ‘আমার একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আমাদের কাছে একজন ব্যক্তি আছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে কে জড়িত, হত্যার মোটিভ কী ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে এই নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করা হলো—এসব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখব।’
অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তার ভাষ্য, শুধু আইফোনের জন্য হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চলছে।
হেফাজতে থাকা ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, এখনই নিশ্চিত নয় বলেও স্পষ্ট করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ‘এটা এখনো জিজ্ঞাসাবাদের পর্যায়ে আছে। আমাদের একটু সময় দিতে হবে। তার মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য ও লোকেশন এবং অপ্রতিমের লোকেশন—এসব বিষয় মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, সে নির্দোষও হতে পারে, আবার দোষীও হতে পারে।’
পুলিশ সুপার জানান, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পরে অপ্রতিমের বাবা-মা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও চান তিনি।
এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরও অপ্রতিমের সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতিমের পরিবারের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও নিখোঁজ রয়েছে। এ কারণে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।
অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করছে।