শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • হাম ও উপসর্গে একদিনে ৫ মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ২০ ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ‘আমার একটাই ছেলে, ওকে ছাড়া কীভাবে বাঁচব’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলে হৃদয়, ফিরলেন জাকের মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় হুমকি এলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাওয়া গোষ্ঠীর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান সাকির ৩০ হাজার আসনের গ্যালারিতে ফাঁকা হাজারো চেয়ার, সাদামাটা এশিয়ান গেমসের উদ্বোধন গজারিয়ায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ৪ রান্নাঘরে মজুত ককটেল বিস্ফোরণে আহত গৃহবধূর মৃত্যু ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য
  • পথনাটকের মঞ্চ থেকে ওটিটি, চরিত্রের ভেতরেই রুনা খানের অভিনয়যাত্রা

    পথনাটকের মঞ্চ থেকে ওটিটি, চরিত্রের ভেতরেই রুনা খানের অভিনয়যাত্রা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    একজন অভিনেত্রীর কাছে চরিত্র মানে শুধু সংলাপ বলা কিংবা ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নয়। চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষটির জীবন, তার অনুভূতি, সংকট ও যাপনের ধরনকে বুঝে পর্দায় তুলে ধরাই রুনা খানের অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই নিজেকে দেখানোর চেয়ে চরিত্রের মানুষটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতেই বেশি মনোযোগী এই অভিনেত্রী।

    রুনা খানের অভিনয়ে হাতেখড়ি ২০০১ সালে পথনাটকের মাধ্যমে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে একটি পথনাটক প্রদর্শনের প্রস্তুতির সময় দলের এক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তার জায়গায় মঞ্চে ওঠেন রুনা।

    রুনা খান

    হাজারো দর্শকের সামনে প্রথমদিকে কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত অভিনয় দিয়ে দর্শকদের সামনে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহকে আরও গভীর করে। একটি চরিত্র ধারণ করা যে অন্য এক মানুষের জীবনকে কিছু সময়ের জন্য নিজের মধ্যে ধারণ করার মতো—প্রথম দিকের সেই মঞ্চই তাকে হয়তো তা বুঝিয়েছিল।

    ২০০৪ সালে শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসিমপুর’-এর মাধ্যমে পেশাদার অভিনয়জীবনে প্রবেশ করেন রুনা খান। এরপর মঞ্চ ও টেলিভিশনের পাশাপাশি সিনেমায়ও কাজ করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও।

    ২০০৯ সালে বিয়ের পর মাতৃত্বের কারণে প্রায় তিন বছর অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন রুনা। পরিবার ও সন্তানকে সময় দেওয়ার পর আবার কাজে ফিরলেও নিয়মিত ধারাবাহিকের পরিবর্তে একক নাটক, টেলিছবি ও চলচ্চিত্রে বেশি কাজ করতে দেখা যায় তাকে।

    দেশে ওটিটির বিস্তার রুনার অভিনয়ের পরিধিও বাড়িয়ে দেয়। একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজের সুযোগ পান তিনি। ‘আন্তঃনগর’-এ রোজিনা, ‘অসময়’-এ এমিলি রহমান এবং ‘বোধ’-এ দীপ্তির মতো চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের সামনে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশেষ করে ‘অসময়’-এর এমিলি রহমান চরিত্রটি তার অভিনয়জীবনে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে আলোচিত হয়।

    অভিনয়কে নিজের ভালোবাসার জায়গা হিসেবে দেখেন রুনা খান। তিনি বলেন, ‘অভিনয় আমার কাছে ভালোবাসার জায়গা। আমি এটিকে কখনও শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখিনি। হয়তো সে কারণে কাজ কম হলেও আমি এমন কিছু করতে চাই, যেটি করার পর মনে হবে সময়টা সার্থক হয়েছে।’

    সব সময় নিজের পছন্দের চরিত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ আসে না বলেও জানান তিনি। তবে যে কাজের প্রস্তাব গ্রহণ করেন, সেটিতেই নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। রুনার ভাষায়, ‘যারা আমাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ভেবেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

    বর্তমানে রুনা খানের হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র। এগুলো হলো কৌশিক শংকর দাসের ‘দাপন’, মাসুদ পথিকের ‘বক’, জাহিদ হোসেনের ‘লীলামন্থন’, সন্দীপ বিশ্বাসের ‘অসীমের পানে’ এবং রাজন তালুকদারের ‘জলপবন’।

    এ ছাড়া খুব শিগগির একটি ওয়েব ফিল্মের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে তার। শুটিং শুরু হলে প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন অভিনেত্রী।

    কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে পথনাটকের সেই মঞ্চ থেকে আজকের ওটিটি—রুনা খানের অভিনয়যাত্রা পেরিয়েছে নানা বাঁক। মঞ্চ, টেলিভিশন, সিনেমা ও ওটিটিতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছেন তিনি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন